শিরোনাম

রূপপুরে কেন পিছিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন?

দীর্ঘ এক দশক ধরে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণু সংস্থা রোসাটমের তত্ত্বাবধানে নির্মিত রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে চলছে পারমাণু জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডের প্রস্তুতি। তবে, চূড়ান্ত এই পর্যায়ে প্রকল্পটি নিয়ে একের পর এক নেতিবাচক খবরে উদ্বেগ বাড়ছে।

রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পারমাণু সংস্থা আইএইএ-র প্রতিবেদনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। তারা আরও বলেছে, আইএইএ-র অনুমোদন এবং সব নিরাপত্তা শর্ত পূরণ না করে কোনোভাবেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হবে না।

আইএইএ সাধারণত তাদের মিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করে। সংস্থাটির আইনগত লক্ষ্য হলো পারমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা। সম্প্রতি আইএইএ-র একটি বিশেষজ্ঞ দল রূপপুরে প্রি-ওসার্ট মিশন পরিচালনা করেছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা দিয়েছে। তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এরপর আন্তর্জাতিক সংস্থা চূড়ান্ত ওসার্ট মিশন পাঠাবে এবং তাদের সুপারিশ পূরণের পরই পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি লোডিং করা সম্ভব হবে। ফলে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, তা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গোপন প্রতিবেদনের’ সূত্র উল্লেখ করে ‘ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা’ সংক্রান্ত যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা আসলে ভুল তথ্যের মাধ্যমে রূপপুরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

আইএইএ-র প্রাথমিক প্রতিবেদনে কিছু অসংগতি, সুপারিশ ও পরামর্শ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রতিরোধক তার ব্যবহার, স্থানীয়ভাবে তৈরি নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ধার নেওয়া যন্ত্রাংশ, এবং অস্থায়ী বৈদ্যুতিক তার ব্যবহারসহ বিভিন্ন ত্রুটি।

প্রকল্পের জরুরি অবস্থার জন্য ১০.৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডিজেল জেনারেটর স্থাপনের কথা থাকলেও মূল ডিজাইনের বাইরে গিয়ে অস্থায়ী তার ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সব ত্রুটি সংশোধন করে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে এ বছর শেষ হয়ে যাবে, তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন আবারো পিছিয়ে যাচ্ছে।

তবে, এনপিসিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, আইএইএ-র এই ধরনের সুপারিশ স্বাভাবিক এবং এটি আন্তর্জাতিক মান অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, রূপপুর কেন্দ্র শতভাগ নিরাপদ করার পরই জ্বালানি লোড করা হবে। তিনি আরও জানান, অন্যান্য দেশের প্রি-ওসার্ট মিশনের তুলনায় বাংলাদেশের জন্য প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনেক ভালো।

এছাড়াও দেখুন

কখন এবং কেন জারি হয় ১৪৪ ধারা?

ঢাকা/কলকাতা: জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার কর্তৃক জারি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিধান হলো …