শিরোনাম

কখন এবং কেন জারি হয় ১৪৪ ধারা?

ঢাকা/কলকাতা: জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার কর্তৃক জারি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিধান হলো ফৌজদারী কার্যবিধির (CrPC) ১৪৪ ধারা। এটি একটি প্রতিরোধমূলক আইন যা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয়।

 

আইনটি কী?

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (বা ভারতে ১৯৭৩) এর ১৪৪ ধারা হলো এমন একটি বিধান যা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কোনো এলাকায় উপদ্রব (nuisance) বা আসন্ন বিপদ (apprehended danger) রোধ করার জন্য জরুরি আদেশ জারি করার ক্ষমতা দেয়।

প্রধান উদ্দেশ্য: জনজীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার প্রতি বিপদ, অথবা দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা।

মূল নিষেধাজ্ঞা: এই ধারার অধীনে সাধারণত চার বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে সভা, সমাবেশ, মিছিল বা গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়াও অস্ত্র বহন বা স্লোগান দেওয়াও নিষিদ্ধ হতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশে ঢাকা মহানগর এলাকায় ১৯৭৬ সাল থেকে এই ধারার প্রয়োগ রহিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ২৮ ধারা-এর মাধ্যমে অনুরূপ ক্ষমতা পুলিশ কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে।

 

১৪৪ ধারা জারির প্রক্রিয়া

১৪৪ ধারার আদেশ জারির প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট, যা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়:

ধাপপ্রক্রিয়াবিবরণ
১. কর্তৃপক্ষনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাজেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা রাজ্য সরকার কর্তৃক বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই আদেশ জারি করতে পারেন।
২. ভিত্তিজরুরি পরিস্থিতি ও আশঙ্কার প্রমাণম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যদি পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকে যে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্য বা শান্তি বিঘ্নিত হবে, তবেই তিনি আদেশ জারি করেন।
৩. আদেশের ধরনলিখিত ও সুনির্দিষ্ট আদেশআদেশটি অবশ্যই লিখিত হতে হবে। এতে কী কী কাজ নিষিদ্ধ করা হলো এবং আদেশের কারণ কী, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এই আদেশ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা একটি এলাকার সাধারণ জনগণের প্রতি নির্দেশিত হতে পারে।
৪. নোটিশজরুরি অবস্থায় একতরফাসাধারণ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়ার কথা থাকলেও, চরম জরুরি পরিস্থিতিতে বা সময় না থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট নোটিশ ছাড়াই (Ex-parte) আদেশ জারি করতে পারেন।
৫. সময়সীমামেয়াদকাল১৪৪ ধারার আদেশ সাধারণত ২ মাসের বেশি কার্যকর থাকতে পারে না। তবে, বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
৬. প্রতিকারআদেশের পরিবর্তন/বাতিলএই আদেশের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত যে কোনো ব্যক্তি আদেশের পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য আদেশ জারিকারী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেট তখন আবেদনকারীকে শুনানির সুযোগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

আইন লঙ্ঘনের পরিণতি: ১৪৪ ধারার আদেশ অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার জন্য কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে।

এছাড়াও দেখুন

পূজা উপলক্ষে বিনামূল্যে সেবা TBR-এর মানবিক উদ্যোগ

ঢাকার মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার শ্রী শ্রী আখড়া মন্দির প্রাঙ্গণে অলাভজনক সামাজিক সংগঠন The Bangladesh Resonaire (TBR)-এর …