লিবিয়ার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই একটি নৌকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৫০ জন মারা গেছেন। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে। খবরটি প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম মঙ্গলবার জানায়, জীবিতদের মধ্যে ২৪ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আইওএম তাদের এক্স পোস্টে সমুদ্রপথে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
এটি প্রথম ঘটনা নয়। গত মাসেও ইয়েমেনের উপকূলে শরণার্থীভর্তি একটি নৌকা ডুবে ৮৬ জন নিহত হয়েছিল। গত বছর ভূমধ্যসাগরে অন্তত ২,৪৫২ জন অভিবাসী ও শরণার্থী নিহত হয়েছেন। আইওএম জানিয়েছে, এই রুটটি এখন শরণার্থীদের জন্য এক বিপজ্জনক মৃত্যু উপত্যকা হয়ে উঠেছে।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃত্যুর পর থেকে লিবিয়া ইউরোপে অভিবাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে। গাদ্দাফির শাসনামলে এই তেল-সমৃদ্ধ দেশটি আফ্রিকান অভিবাসীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় কাজের গন্তব্য ছিল। তবে গাদ্দাফির পতনের পর দেশটিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়, যা লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
গত আগস্টে দক্ষিণাঞ্চলীয় ইতালিয়ান দ্বীপ ল্যামপেদুসার কাছে দুটি নৌকা ডুবে ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং জুনে লিবিয়ার উপকূলে দুটি নৌকা ডুবে ৬০ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন।
অধিকার গোষ্ঠী ও জাতিসংঘ জানিয়েছে, লিবিয়াতে শরণার্থী ও অভিবাসীদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং মারধরের মতো ঘটনা রয়েছে। এনজিওগুলো আরও জানিয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার এই যাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
Rang Tv News & entertainment
