কলকাতার অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত। ব্যক্তিগত জীবনে খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে নিজের জীবনের গোপন কথা শেয়ার করেছেন। জীবনে নেওয়া নানা সিদ্ধান্ত নিয়েও আফসোস নেই তাঁর।
নয় বছর বয়সে বাবাকে হারানো দেবলীনার পথ আরো কঠিন হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের মণ্ডপে বর আসেননি, ভেঙে যায় বিয়ে। তাঁর জীবনের গল্প সিনেমার মতোই।
দেবলীনা বলেন, “বিয়ের পিঁড়িতে বউ সেজে বসেছিলাম।
লোকজন আসছেন। খাচ্ছেন… চলে যাচ্ছেন। বর এলেন না…”। বারবার হবু স্বামীর ফোনে ফোন করতেও সাড়া মেলেনি।
ফোন বন্ধ, পরিবারেরও ফোন বন্ধ। দেবলীনা সেদিন চাইলেই ভেঙে পড়তে পারতেন, অথবা প্রতিহিংসার খেলায় মেতে উঠতে পারতেন হয়তো। কোনোটিই তিনি করেননি। সেই সময় যে গুটি কয়েক বন্ধুকে পাশে পেয়েছিলেন অভিনেত্রী, তথাগত তাঁদের মধ্যে একজন। সেই তথাগতের সঙ্গে আজ তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক নেই বললেই চলে। এক ছাদের তলায় থাকেনও না তাঁরা।
পরিচালক-অভিনেতার নাম জড়িয়েছে অন্য এক অভিনেত্রীর সঙ্গে। না, তথাগতকেও দোষারোপ করতে চাননি দেবলীনা। চান না তাঁকে নিয়ে খারাপ কথা বলতেও। বরং যে নয় বছর একসঙ্গে কাটিয়েছেন তাঁরা তা দেবলীনার জীবনে সেরা ৯ বছর বলেই ভাবতে চান তিনি। বললেন, “আমাদের জুটিটাকে দর্শক যতটা পছন্দ করতেন আমিও ঠিক ততটাই পছন্দ করতাম। ওই ৯ বছর আমার জীবনে কাটান শ্রেষ্ঠ ন’টা বছর বলে আমি মনে করি।”
এদিকে বর্তমান সময়টাও খারাপ যাচ্ছে অভিনেত্রীর। তাকে কাজে ডাকা হচ্ছে না। এর কারণ প্রতিবাদ। দেবলীনা বলছেন, ‘ডাক্তার ভাইদের সঙ্গে এক বছর ধরে আছি। এবারও ওদের ডাকে মশাল মিছিলে গিয়েছিলাম। এরকম একটা জটিল বিষয় নয় যে ৩৬৫ দিনে পাওয়া যাবে না, সেটা জানতাম। সেটা পাওয়া গেলে আন্দোলনের দরকারই পড়ত না। গত বছর পূজার সময়ে ডাক্তারদের সঙ্গে ছিলাম। কোনও কাজ করিনি। সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি শিল্পীদের আয়ের সময়। এটা শিল্পীদের পেশার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পূজা বাদ দিয়ে গত বছর যা ইভেন্ট ছিল আমার, সবই বাতিল হয়ে গিয়েছিল। যাঁদের কাছে পরপর দু’ বার গিয়েছিলাম, তিন নম্বর বছর যাওয়ার ছিল, তাঁরাও ফোন করে ক্ষমা চান। এক জায়গায়, আমার নাম বলতেই ঝামেলা হয়।”
Rang Tv News & entertainment
