বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ধূমপান এখনো একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত। এটি সরাসরি ফুসফুসের ক্ষতি করে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তবে সুখবর হলো, ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীর দ্রুত নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে, আর সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরও গতি পায়।
ভারতের একজন পালমোনোলজিস্ট সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় ধূমপান পরবর্তী ফুসফুসের যত্নে ৫টি বিশেষ খাবারের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ধূমপান ত্যাগ করা ফুসফুস সুস্থ করার প্রথম ধাপ। এরপর সঠিক খাবার তালিকায় যোগ করলে সুস্থতার গতি বহুগুণ বেড়ে যায়।”
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সেই ৫টি খাবার হলো—
- ক্রুসিফেরাস সবজি: ব্রোকলি, ফুলকপি এবং বাঁধাকপির মতো সবজিতে থাকা সালফোরাফেন ফুসফুসের ডিটক্স এনজাইম সক্রিয় করে, যা সিগারেটের ধোঁয়ার ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।
- বিট ও ডালিম: এই দুটি খাবারে উচ্চ পরিমাণে নাইট্রেট থাকে, যা ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করে। এটি ধূমপায়ীদের শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণে অত্যন্ত সহায়ক।
- গ্রিন টি: এতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যাটেচিন ফুসফুসের প্রদাহ কমায় এবং সিওপিডি ও ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক সতেজতা বাড়াতেও কার্যকর।
- আপেল ও সাইট্রাস ফল: আপেলের কোয়েরসেটিন এবং সাইট্রাস ফলের ভিটামিন সি ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতে সহায়তা করে এবং শ্বাসনালীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- হলুদ: হলুদে থাকা কারকিউমিন একটি শক্তিশালী প্রদাহনাশক ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু দ্রুত মেরামতে সহায়ক।
ফুসফুস সুস্থ রাখার মূল শর্ত হলো ধূমপান ত্যাগ করা। এর পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ফুসফুস ধীরে ধীরে নতুন শক্তি ফিরে পায়।
Rang Tv News & entertainment