স্বপ্ন পূরণ করতে হলে দারুণ কিছুই করতে হবে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলকে। লাওসে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলতে নেমে সেই দারুণ কিছুই করেছেন মেয়েরা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়ে অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়া কাপ বাছাই শুরু করেছে বাংলাদেশ।
তাতে যুব পর্যায়ের এশিয়া কাপের মূল পর্বে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম পরীক্ষায় পাস করেছে বাংলাদেশ।
ভিয়েনতিয়েনের নিউ লাওস জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে দারুণ শুরুই পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে স্বাগতিক লাওসের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে। গোলটি করেছেন মোসাম্মৎ সাগরিকা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আধিপত্য দেখালেও গোলের তেমন সুযোগ পাচ্ছিল না। উল্টো ১১ মিনিটে স্বাগতিক লাওসের মেয়েরাই পেয়েছিল। তবে গোলরক্ষক স্বর্ণা রানি মন্ডল ও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের দৃঢ়তায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ। স্বর্ণা দারুণ সেভ করলে ফিরতি সুযোগ পায় লাওসের আক্রমণভাগের এক খেলোয়াড়।
ফিরতি মিনিটে পূজা দাস দারুণ এক দূর পাল্লার শট নিয়েছিলেন। তবে ডি বক্সের অনেক বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো শট জালে জড়ানোর আগে লাওসের গোলরক্ষক থংসামুদ ভংখাম্পান কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন।
তবে ৩৬ মিনিটের এক সেটপিসকে আটকাতে পারেননি লাওসের গোলরক্ষক। তাতে জালের দেখা পায় বাংলাদেশ। গোলটি করেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। শান্তি মার্ডির কর্নারকে হেডে জালে জড়ান সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ খেলে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করা সাগরিকা।
বিরতিতে যাওয়ার ৪ মিনিট আগে আরেকটি গোল পেয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ভাগ্যেকে পাশে পায়নি আফঈদা-সাগরিকারা। ৪১ মিনিটে বক্সের কাছাকাছি থেকে নেওয়া শিখার শটটি যে বারে লেগে ফিরে আসে। পরে আর কোনো গোল না হলে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর খেলার ধার ও আক্রমণ দুটোই বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। তার সুফলও পেয়েছে ৫৮ মিনিটে। আক্রমণভাগের তিন খেলোয়াড় নিজেদের মধ্যে দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে লাওসের রক্ষণভাগকে বোকা বানায়। বাঁ প্রান্তে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানান মুনকি আক্তার। তারপর এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের ডান প্রান্ত দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। তাতে ২-০ লিড পায় বাংলাদেশ।
৭০ মিনিটে অবশ্য ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন লাওসের ফরোয়ার্ড আন্না কেও ওনসি। তবে গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। গোলবার ছেড়ে সামনে এসে বল তালুবন্দি করতে না পারলেও প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডের চেষ্টা নসাৎ করে দেন স্বর্ণা।
স্বর্ণার বীরত্বের ২ মিনিট পর তৃতীয় গোলের দেখা প্রায় পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এবারও ভাগ্য পাশে থাকেনি। সাগরিকার হেড জালে জড়ানোর আগে বারে লেগে ফেরত আসে।
অন্যদিকে ম্যাচ শেষ হওয়ার ৩ মিনিট আগে ব্যবধান কমায় লাওস। ব্যবধান কমানো গোলটি করেন ওনসি। তবে এই আনন্দ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি লাওস। কেননা যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তাদের জালে শেষ পেরেক মারেন সাগরিকা। বক্স থেকে বাঁ পায়ের দারুণ এক শটে জোড়া গোল করেন তিনি।
Rang Tv News & entertainment
