শিরোনাম

যে অপরাধের প্রমাণ নেই, রিমান্ডে গিয়ে ’ডিম’ দিলে স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন অভিযুক্তরা?

রিমান্ড হলো একটি আইনি প্রক্রিয়া যেখানে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কোনো অপরাধের বিষয়ে আরও তদন্ত বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিচারিক হেফাজতে রাখা হয়। যখন কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়, তখন পুলিশ তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে। যদি পুলিশ মনে করে যে মামলাটির সঠিক তদন্তের জন্য অভিযুক্তকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন, তখন তারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রিমান্ডের আবেদন করে।

ম্যাজিস্ট্রেট তখন মামলার গুরুত্ব, প্রমাণের অবস্থা এবং জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারেন। তবে, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তকে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

রিমান্ড কত প্রকার

মূলত, রিমান্ডকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

  • পুলিশ রিমান্ড (Police Remand): যখন আদালত কোনো অভিযুক্তকে পুলিশের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়, তখন তাকে পুলিশ রিমান্ড বলা হয়। এই সময়ে পুলিশ অভিযুক্তকে তাদের জিম্মায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। সাধারণত, এটি মামলার প্রাথমিক তদন্তের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • জুডিশিয়াল রিমান্ড (Judicial Remand): যখন কোনো অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়, তখন তাকে জুডিশিয়াল রিমান্ডে রাখা হয়েছে বলে ধরা হয়। এই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে থাকে না, বরং কারাগারের তত্ত্বাবধানে থাকে। যদি পুলিশ রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হয় এবং তদন্ত তখনও অসম্পূর্ণ থাকে, অথবা পুলিশ যদি আর রিমান্ড না চায়, তখন আদালত অভিযুক্তকে জুডিশিয়াল রিমান্ডে পাঠাতে পারে। এই অবস্থায় অভিযুক্তকে বারবার আদালতে হাজির করা হয় এবং তার বিচার চলতে থাকে।

বাংলাদেশের রিমান্ড ব্যবস্থা কেমন

বাংলাদেশের রিমান্ড ব্যবস্থা মূলত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ও ৩৪৪ ধারার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। তবে, এই ব্যবস্থা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে।

  • আইনি প্রক্রিয়া: বাংলাদেশের আইনে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। যদি পুলিশ মনে করে যে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন, তাহলে তারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রিমান্ডের আবেদন করতে পারে। ম্যাজিস্ট্রেট তখন সর্বোচ্চ ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারেন।
  • অপব্যবহারের অভিযোগ: বাংলাদেশে রিমান্ডকে প্রায়শই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি বা অভিযুক্তের কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী রিমান্ডে কোনো ধরনের নির্যাতন করা যাবে না, তবুও এই নিয়ম প্রায়শই লঙ্ঘিত হয়।
  • হাইকোর্টের নির্দেশনা: ১৯৯৮ সালে হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায়ে রিমান্ড বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে হাতকড়া পরানো যাবে না, তার শরীর ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং তাকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। তবে বাস্তবে এই নির্দেশনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনো সম্ভব হয়নি।

এছাড়াও দেখুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পার্লারে চাঞ্চল্য পিস্তল ও জাল টাকা উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার একটি বিউটি পার্লার থেকে একটি পিস্তলসহ ১০ লাখেরও বেশি জাল টাকা উদ্ধার …