ঋণের বোঝা সইতে না পেরে যিনি ‘আত্মহত্যা’ করেছিলেন, সেই মিনারুল ইসলামের বাড়িতেই আবারও ঋণ করে কুলখানির আয়োজন করা হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট মিনারুল তার স্ত্রী মনিরা খাতুন, ছেলে মাহিম ও মেয়ে মিথিলাকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন। তাদের চল্লিশা উপলক্ষে প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষের জন্য এই আয়োজন করা হয়।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড়ে তাদের গ্রামের বাড়িতে এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মুড়িঘণ্ট দিয়ে ভাত খাওয়ানো হয়েছে।
মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী বলেন, “বাপ-দাদার আমল থেকেই দেখে আসছি, আমিও মনের আবেগে এই আয়োজন করলাম। চার জনের মৃত্যুর পর বাড়িটা ভারী ভারী লাগছিল, ছোট ছেলেমেয়েরা ভয় পাচ্ছিল। এই অনুষ্ঠানটা করলাম যাতে ভয় ভাঙে, বাড়িটা পাতলা হয়।”
খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সবই ধারদেনা করে এই টাকা জোগাড় করা হয়েছে। আমার তো জমানো কোনো টাকা নেই।” কুলখানির খরচ কীভাবে শোধ করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “১৫-১৬ কাঠা জমি আছে। এক কাঠা বেচে ধার শোধ করবো। তাছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
মিনারুলের লাশের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গিয়েছিল, যাতে তিনি লিখেছিলেন, “আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছি না। তাই বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াটাই ভালো হলো।”
Rang Tv News & entertainment
